ভোলা সরকারি কলেজের ইতিহাস

ভোলা সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা ও ক্রম বিবর্তন বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে ভোলার কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির উদ্যোগে 16.09.1962 খ্রিষ্টাব্দে একাদশ বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগ নিয়ে বেসরকারিরূপে ভোলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। 1963-1964 শিক্ষাবর্ষে কলেজটিতে স্নাতক (পাস) কোর্স চালু হয়। 1979 সালের 7 মে কলেজটিকে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে কলেজে 16টি বিষয়ে অনার্স, 13টি বিষয়ে মাস্টার্স, 4টি বিষয়ে প্রিলিমিনারী (মাস্টার্স) ও 2টি বিষয়ে প্রাইভেট মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। আরও কয়েকটি বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্স চালুকরণ প্রক্রিয়াধীন। 1962 সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে ক্লাসসমূহ অনুষ্ঠিত হতো বর্তমানের আবদুর রব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। অতঃপর ভোলার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের অক্লান্ত ও নিরলস প্রচেষ্টায় কলেজের নামে ক্রয়কৃত জমিতে টিনের ঘর (বর্তমানে তা ছাত্রাবাস) নির্মাণ করে কলেজটির কার্যক্রম পুরোমাত্রায় চালু হয়। 1966-1967 খ্রিষ্টাব্দে পাকা ভবন (বর্তমানে কলেজ ভবন) নির্মাণ করে কলেজের প্রশাসনিত ও শিক্ষা কার্যক্রম এই ভবনে স্থানান্তর করা হয় এবং টিনের ঘরগুলোকে ছাত্রবাস রূপ দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পাকা ভবনটিকে বিভিন্ন ধরনের সংস্কার করে বর্তমান রূপ দেয়া হয়েছে। কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষাসমূহ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপস্তুক বোর্ড এবং স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও মাস্টার্স (শেষ পর্ব) পর্যায়ের পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষাসমূহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। কলেজের অবস্থান ভোলা সরকারি কলেজটি ভোলার জেলা সদরে অবস্থিত। শহরের দক্ষির প্রান্তে ভোলা-চরফ্যাশন সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে কলেজটির অবস্থান। বর্তমানে কলেজটি ডিজিটাল ক্যাম্পাস নামে পরিচিত। কলেজের অবকাঠামো ও সুবিধাদি ভোলা সরকারি কলেজের জমির পরিমাণ 15.60 একর। এই জমির বিভিন্ন অংশে প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। নতুন করে প্রশাসনিক ভবন, বিজ্ঞান ভবন, বাণিজ্য ভবন, 132 শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ছাত্রী হোস্টেল ও একাডেমিক কাম এক্সাম হল নির্মিত হয়ে কলেজ ক্যাম্পাসটি বরিশাল বিভাগের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় ডিজিটাল ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্গলা বজায় রাখার জন্য সমগ্র ক্যাম্পসে সি.সি ক্যামেরার আয়ত্তে রয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদযাপন করার জন্য হল রুম ছাড়াও বকুলতলা ও ছায়াবিথী মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে অতি মনোরম দুটি বোটানিক্যাল গার্ডেন।