mojib

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও আদর্শ সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের জানানোর জন্যই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু কর্নার’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার । এ লক্ষ্যে ভোলা সরকারি কলেজে প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার’ স্থাপন করা হয়েছে। কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন বৃত্তান্ত ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্ণারে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ পরবর্তী বিভিন্ন দূর্লভ আলোকচিত্রের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে যা পরবর্তীতে আরও সমৃদ্ধ করা হবে। এ কর্ণার স্থাপন…

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

১. পটভূমিঃ

আমাদেরজাতীয়ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায়হলোএকাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। এইমুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়েজন্মলাভ করেস্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

পাকিস্তান নামেররাষ্ট্র গঠনেরপ্রস্তাব করাহয়।১২আগস্টপ্রকাশিত র্যাডক্লিপ রোয়েদাদে পূর্ববঙ্গওপশ্চিমবঙ্গেঁর মধ্যেসীমানাআনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়।পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হলো১৯৪৭সালের১৪আগস্ট।পূর্ববাংলাহয়পাকিস্তানের অংশ-পূর্ব পাকিস্তান। পূর্বথেকেজনগণআশাকরেছিলেন, এবারতাঁদেরআশা-আকাঙ্খা পূরণ হবে। তাঁদেরপ্রত্যাশিত স্বাধীনতা নতুনরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে।উন্নতজীবনেরঅধিকারী হবেন।কিছুদিনের মধ্যেইপূর্বপাকিস্তানের জনগণঅনুভবকরলেন, তাদেরপ্রত্যাশা পূর্ণহওয়ারনয়।পাকিস্তানের শাসকবর্গ বহুবাচনিক সমাজেপূর্বপরিকল্পিত ঐক্যবদ্ধ এককসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করেছে।রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পূর্বপাকিস্তানের জনগণেরঅংশগ্রহণের ক্ষেত্র সংকুচিত করাহচ্ছে।অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁরাবঞ্চনার শিকারহয়েছেন। এমনকিপূর্বপাকিস্তানের সম্পদেপশ্চিমপাকিস্তানের উন্নয়ননিশ্চিত করারব্যবস্থা করাহয়েছে।

এভাবের্পূবপাকিস্তান স্বাধীনতা সংগ্রামরে পটভূমিতৈরিহয়।১৯৫২সালেনিজস্বভাষারঅধিকাররক্ষারজন্যজীবনদানকরতেহয়পূর্বপাকিস্তানের ছাত্রজনতার।১৯৫৮সালেজেনারেল আইয়ুবখানসামরিকশাসনজারিকরেক্ষমতাদখলকরে।১৯৬৬সালের৫ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানবাঙ্গালীর স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠা করারলক্ষেছয়দফাদাবিপেশকরেন।ছয়দফাম্যান্ডেট নিয়েপাকিস্তানে ১৯৭০সালের৭ডিসেম্বর সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত সাধারণনির্বাচনে পূর্বপাকিস্তানের রাজনৈতিক দলএককসংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েজয়লাভকরেআওয়ামীলীগ।পাকিস্তানের জাতীয়পরিষদেসংখ্যাগরিষ্ঠ দলহিসেবেতারউত্তরণঘটে।জনগণপ্রত্যাশা করেছিলনির্বাচিত রাজনৈতিক দলআওয়ামীলীগসরকারগঠনকরেপূর্বপাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ইতিহাসের গতিপাল্টাবেন। পাকিস্তানের শাসকবর্গ-কিছুরাজনৈতিক নেতাএবংকিছুসামরিককর্মকর্তা-ষড়যন্ত্রের গ্রন্থিগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত করেনযেনশাসনক্ষমতাকোনক্রমে বাঙ্গালীর হস্তগতনাহয়।পূর্বপাকিস্তানের জনগণতাসঠিকভাবে অনুধাবন করেন।

২. ভাষা আন্দোলনঃ

 

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরথেকেপূর্বপাকিস্তানের জনগণবাংলাকে অন্যতমরাষ্ট্রভাষা করারদাবিজানিয়েআসছলি।পাকিস্তান সরকারএযৌক্তিক দাবিরসম্পূর্ণ বিরোধিতা করে১৯৪৮সালেইউর্দুকে একমাত্র সরকারিভাষাহিসেবেঘোষণাকরে।এইসিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রতিবাদ চলতেথাকেযাপরবর্তীতে ভাষাআন্দোলন নামেপরিচিতি লাভকরে।এআন্দোলন পুনরুজ্জীবিত হয়১৯৫২সালেএবংসেইবছরের২১ফেব্রুয়ারি ভাষারদাবিতেঢাকাবিশববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছাত্ররা একত্রিত হয়।পুলিশএজনসমাবেশের উপরগুলিচালানোর ফলেরফিক, সালাম, বরকত, জববারসহ আরোঅনেকেশহীদহয়।এইঘটনাআন্দোলনকে একনতুনমাত্রাদানকরেএবংরাজনৈতিক গুরুত্ব বহুমাত্রায় বাড়িয়েদেয়।১৯৫৬সালেচূড়ান্তভাবে সংবিধানে বাংলাকে উর্দূরপাশাপাশি অন্যতমপ্রধানজাতীয়ভাষাহিসেবেগ্রহণকরাহয়।ভাষাআন্দোলনকে পূর্বপাকিস্তানে বাঙালিজাতীয়তাবাদের উত্থানহিসেবেউল্লেখকরাহয়এবং৬দফাআন্দোলন, ৬৯এরগণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পথেএকটিগুরুত্বপূর্ণ ধাপহিসেবেবিবেচনা করাহয়।

৩. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সাধারণ নির্বাচন ও ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনঃ

১৯৫৪সালে১০ইর্মাচপাকিস্তানের সাধারণনির্বাচনে র্পূববঙ্গে যুক্তফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকরেসরকারগঠনকরে।কিন্তুপাকিস্তান শাষকগোষ্ঠী বাঙালির এইআধিপত্য মেনেনিতেপারেনি। মাত্রআড়াইমাসেরমধ্যে৩০শেমেকেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে মন্ত্রিসভা ভেঙ্গেদিয়েরাষ্ট্রপতি শাসনজারিকরাহয়।১৯৫৯সালেসমগ্রপাকিস্তানে সাধারণনির্বাচনের সময়নির্ধারিত হলেবাঙালিদের মধ্যেবিপুলসাড়াদেখাদেয়।জনসংখ্যার ৫৬ভাগবাঙালি, অতএবএইনির্বাচনের ফলাফলচিন্তাকরেকেন্দ্রীয় সরকারনির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্তহয়।একইসময়েসামরিকবাহিনীক্ষমতাদখলেরকৌশলেকেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যেওবিরোধসৃষ্টিকরে।এইধারাবাহিকতায় ১৯৫৮সালের৭ইঅক্টোবর পাকিস্তানে সামরিকশাসনজারিহয়।১৯৬২সালেসামরিকশাসনতুলেনেয়াহ'লে ছাত্র সমাজঅধিকারের দাবিতেপুনরায়আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়।

৪. ১৯৬২ সালের শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনঃ

আন্দোলন নতুনকরেগণ-আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। শিক্ষা সংকোচননীতিরবিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্রমিছিলের উপরপুলিশের গুলিতে১৭ইসেপ্টেম্বর নিহতহনযারমধ্যেওয়াজিউল্ল-া, মোস্তফা ওবাবুলঅন্যতম। ছাত্রসমাজের২২দফাদাবিকেকেন্দ্র করে১৭ইসেপ্টেম্বর '৬৩ 'শিক্ষাদিবস' পালনউপলক্ষে দেশব্যাপী দুর্বার আন্দোলন গড়েওঠে।রাজনৈতিক দলসমূহওবুদ্ধিজীবী সমাজছাত্রদের এইআন্দোলনের সবরকমসমর্থননিয়েএগিয়েআসে।

৫. ছাত্রসমাজেরসশস্ত্র আন্দোলনের প্রস্ত্ততিঃ

পাকিস্তানের কাঠামোয় বাঙালিজাতিসত্তার বিকাশঘটাঅসম্ভববিবেচনা করেতৎকালীন ছাত্রসমাজেরনেতৃস্থানীয় কয়েকজন১৯৬২সালেগোপনেছাত্রদের সংগঠিতকরারপ্রচেষ্টা গ্রহণকরেন।বাঙালিজাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ এইছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব দেনজনাবসিরাজুল আলমখান, জনাবআবদুররাজ্জাক এবংকাজীআরেফআহমেদ।এইসংগঠন 'স্বাধীন বাংলাবিপ্ল-বী পরিষদ' নামেপরিচিতছিল।

৬. '৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলনঃ

১৯৬৫সালেপাকভারত যুদ্ধের সময়কালে বাস্তবক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়পূর্ববাংলাসম্পূর্ণভাবে অরক্ষিত ছিল।স্পষ্টহয়েওঠেপাকিস্তানের সামরিকশাসকগণসামাজিক, সাংস্কৃতিক নিপীড়নওঅর্থনৈতিক শোষণেরধারাবাহিকতায় পূর্ববাংলার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ন্যূনতম উন্নতিকরারপ্রচেষ্টা গ্রহণকরেনি।বাঙালিদের প্রতিজাতিগতএইবৈষম্যের বাস্তবচিত্রতুলেধরে১৯৬৬সালের৫ইফেব্রুয়ারী লাহোরেআহুত 'সর্বদলীয় জাতীয়সংহতিসম্মেলন' শেখমুজিবররহমান৬দফাদাবীউপস্থাপন করেন।ভাষণেতিনিবলেন, 'গতদুইযুগধরেপূর্ববাংলাকে যেভাবেশোষণকরাহয়েছেতারপ্রতিকারকল্পে এবংপূর্ববাংলারভৌগোলিক দূরত্বের কথাবিবেচনা করেআমি৬দফাপ্রস্তাব উত্থাপন করছি।' পরবর্তীতে এই৬দফাদাবিবাঙালিজাতিরমুক্তিসনদ হিসাবেবিবেচিত হয়।

৭. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাঃ

বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সামরিকবাহিনীর কিছুসংখ্যকসদস্যরাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় লেঃকমান্ডার মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে পূর্ববাংলাকে বিচ্ছিন্ন করেরাষ্ট্রীয় ক্ষমতাদখলেরএকপ্রচেষ্টা গ্রহণকরে।সংগঠনের কোনএকসদস্যের অসতর্কতার ফলেপাকিস্তান সরকারের কাছেএইপরিকল্পনার কথাফাঁসহয়েপড়ে।পূর্বপাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করারষড়যন্ত্রে ১৯৬৭সালেরডিসেম্বর মাসেপাকিস্তান সরকারসামরিকবেসামরিক ২৮ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।১৯শেজুন '৬৮পাকিস্তান সরকারশেখমুজিবররহমানসহ ৩৫ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেএকরাষ্ট্রদ্রোহী মামলাদায়েরকরে।এইমামলা 'আগরতলাষড়যন্ত্র মামলা' নামেপরিচিত।

১৯শেজুন১৯৬৮, ঢাকাসেনানিবাসে এইমামলারবিচারশুরুহয়।বিচারকার্যচলারসময়থেকেশ্লোগান ওঠে- 'জেলেরতালাভাঙব- শেখমুজিবকে আনব।' এইগণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বলা যায়, এইসময়সমস্তদেশব্যাপী সরকারবিরোধীআন্দোলন পূর্ণতা লাভকরে।

৮. '৬৯ এর গণ-আন্দোলনঃ

পূর্ব-বাংলার স্বায়ত্বশাসনের দাবিতেজাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলওছাত্রসংগঠনগুলোর সমন্বয়ে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়েওঠে।রাজনৈতিক শ্লোগান পরিবর্তিত হয়। 'তোমারআমারঠিকানা- পদ্মামেঘনাযমুনা।' পিন্ডিনাঢাকা- ঢাকাঢাকা। 'জাগোজাগো-বাঙালি জাগো'।এইধারাবাহিকতায় স্বায়ত্বশাসনের আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথকেউন্মক্ত করে। অহিংসআন্দোলন সহিংসতার দিকেধাবিতহতেথাকে।এইসময়রাজনৈতিক দলের৬দফাদাবিগণদাবিতে পরিণতহয়।বাঙালিএককজাতিসত্তার আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জেনারেল আইয়ুবখানদেশেসামরিকশাসনজারিকরেসেনাবাহিনী প্রধানজেনারেল ইয়াহিয়া খানেরকাছেক্ষমতাহস্তান্তর করেন।এইগণ-আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে২০শেজানুয়ারী' ৬৯ছাত্রআসাদুজ্জামান এবং২৪শেজানুয়ারী'৬৯স্কুলছাত্রমতিউররহমানমৃত্যুবরণ করে।ছাত্রআন্দোলনের ভূমিকায় শহীদআসাদ-মতিউর দুটি উল্লেখযোগ্য নাম।শেরেবাংলানগরওমোহাম্মদপুরের সংযোগস্থলেরআইয়ুবগেটেরনামপরিবর্তন করে 'আসাদগেট' এবংবঙ্গভবনের সামনেরউদ্যানের নাম 'মতিউররহমানশিশুউদ্যান' করাহয়।জানুয়ারী '৬৯এগৃহিতছাত্রদের ১১দফাআন্দোলনকে আরওবেগবানকরে।

১৫ইফেব্রুয়ারি' ৬৯পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতেআহতঅবস্থায় বন্দীআগরতলামামলায়অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুলহকমৃত্যুবরণ করেন।১৮ইফেব্রুয়ারি' ৬৯রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডঃশামসুজ্জোহা পুলিশের গুলিতেনিহতহন।এইমৃত্যুসংবাদগণ-আন্দোলনে আরেকটি নতুন মাত্রাযুক্তকরে।প্রচন্ড-আন্দোলনের মুখেপাকিস্তান সরকার২১শেফেব্রুয়ারি' ৬৯এইমামলাপ্রত্যাহার করতেবাধ্যহন।২২শেফেব্রুয়ারি' ৬৯, শেখমুজিবররহমানসহ অভিযুক্ত সকলেইঢাকাসেনানিবাস থেকেমুক্তিলাভকরেন।এইআন্দোলনের মধ্যদিয়েশেখমুজিবুর রহমানবাঙালিজাতিরএককএবংঅবিসংবাদিত নেতাহিসাবেআত্মপ্রকাশ করেন।২৩শেফেব্রুয়ারি' ৬৯সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের পক্ষথেকেঢাকারেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) একবিশালগণ-সম্বর্ধনায় শেখ মুজিবর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিতকরাহয়।

এইমামলায়অভিযুক্ত ওবন্দীঅবস্থায় সেনাবাহিনীর গুলিতেনিহতসার্জেন্ট জহুরুলহকওডঃশামসুজ্জোহাকে জাতিশ্রদ্ধাভরে স্মরণকরে।উভয়েইস্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতমসৈনিকহিসাবেচিহ্নিত। ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের 'সার্জেন্ট জহুরুলহকহল' ওরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে 'শামসুজ্জোহা হল' তাদেরস্মরণেনামকরণকরাহয়েছে।

'৬৯ এরএইছাত্রআন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সিরাজুল আলমখান, আবদুররাজ্জাক, কাজীআরেফআহমেদ, আবদুররউফ, খালেদমোহাম্মদ আলী, তোফায়েল আহমেদ, আসমআবদুররব, নূরেআলমসিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ, সামসুদ্দোহা, মোস্তফা জামালহায়দর, রাশেদখানমেনন, বেগমমতিয়াচৌধুরী, দীপাদত্ত, হায়দরআকবরখানরণোসহঅনেকে।

রাজনৈতিক দলীয়প্রধানযাদেরনিরলসপরিশ্রম ওনির্দেশনায় বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের এইআন্দোলন পূর্ণতা লাভকরেছিলতাদেরমধ্যেজননেতামওলানাআবদুলহামিদখানভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবররহমান, কমরেডমনিসিং, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ, শ্রীমনোরঞ্জন ধরঅন্যতম।

৯. '৭০ এর সাধারণ নির্বাচনঃ

২৫শেমার্চ৬৯সারাদেশেসামরিকশাসনজারিরমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাহস্তান্তর হলেওসামরিকসরকারগণ-দাবিকে উপেক্ষা করারমতশক্তিসঞ্চয়করতেপারেনি। তাইপ্রধানসামরিকআইনপ্রশাসক জেনারেল আগামোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানসারাদেশেএকব্যক্তি একভোটেরনীতিতেসাধারণনির্বাচন দিতেবাধ্যহন।৭ইডিসেম্বর '৭০থেকে১৯শেডিসেম্বর' ৭০এরমধ্যেনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবেবলেতফসিলঘোষণাকরাহয়এবংশান্তিপূর্ণভাবে দেশব্যাপী এইনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচনে দেশেরসংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ৬দফাওবাঙালিজাতীয়তাবাদের পক্ষেরায়প্রদানকরে।এইনির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগজাতীয়পরিষদে৩১০আসনেরমধ্যে১৬৭আসনেজয়লাভকরেনিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েকেন্দ্রীয় সরকারগঠনেরম্যান্ডেট লাভকরে।

'বাঙালির শাসনমেনেনেওয়াযায়না' এইনীতিতেপাকিস্তানি সামরিকশাসকগণনির্বাচিত এইজনপ্রতিনিধিদের কাছেক্ষমতাহস্তান্তরের প্রতিবন্ধক হয়েউঠে।বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলারজাতীয়নেতৃবৃন্দ এরপ্রতিবাদে রুখেদাঁড়ায়। শুরুহয়অধিকারের সংঘাত।ছাত্রসমাজএইআন্দোলনে নতুনমাত্রাযোগকরে।৭০এবঙ্গবন্ধু এককুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে পূর্ববাংলারম্যাপঅংকিতএকটিপতাকাপ্রদানকরেন।এইপতাকাইপরবর্তীতে বাংলাদেশের পতাকাহিসাবেগৃহীতহয়।ছাত্রদের এইসংগঠনপ্রতিরোধ যুদ্ধের প্রস্ত্ততি গ্রহণকরেপ্রতিটি জেলাওমহকুমাশহরেশুরুহয়সামরিকপ্রশিক্ষণের মহড়া।জাতীয়তাবাদী এইআন্দোলনে ছাত্রওযুবসমাজেরঅংশগ্রহণ জনসমাজকেআরোউৎসাহিত করেতোলে।

১০. '৭১ এর অসহযোগ আন্দোলনঃ

নির্বাচনে জয়লাভের পরপাকিস্তানের সামরিকশাসকজেনারেল আগামোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানবঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানকে সরকারগঠনেমতদিতেঅস্বীকার করেন।একটিরাজনৈতিক দলজনগণেরভোটেসংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েসরকারগঠনেরম্যান্ডেট পেয়েছে। তারাসরকারগঠনকরবে, এটাইছিলবাস্তবতা। কিন্তুসামরিকশাসকগণসরকারগঠনবানির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছেক্ষমতাহস্তান্তরের প্রক্রিয়া বাদদিয়েএকআলোচনাশুরুকরে।কিসেরজন্যআলোচনা, এটাবুঝতেবাঙালিনেতৃবৃন্দের খুবএকটাসময়লাগেনি। জাতীয়সংসদেরনির্ধারিত অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ১লামার্চ১৯৭১দেশব্যাপী অসহযোগের আহবানজানান।সর্বস্তরের জনগণএকবাক্যে বঙ্গবন্ধুর এইআহবানেসাড়াদিয়েপূর্বপাকিস্তানের সমস্তপ্রশাসনিক ওঅর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অচলকরেতোলে।২রামার্চ৭১ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকাপ্রদর্শিত হয়।৩রামার্চ '৭১এরমনারেসকোর্স (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) 'স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ' এরপক্ষথেকে 'স্বাধীনতার ইসতেহার' পাঠকরাহয়।এইইসতেহারে 'আমারসোনারবাংলাআমিতোমায়ভালবাসি' গানটিকে জাতীয়সঙ্গীতহিসেবেস্বীকৃতি দেয়াহয়এবংবঙ্গবন্ধু শেখমুজিবররহমানের নেতৃত্বের প্রতিআস্থারেখেসংগ্রাম চালিয়েযাওয়ারসিদ্ধান্ত গ্রহণকরাহয়।

পাকিস্তান সামরিকবাহিনীপরিচালিত সরকারজাতীয়পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছেক্ষমতাহস্তান্তরের বিষয়েকোনসমাধাননাদেওয়ায়, ৭ইমার্চ১৯৭১বঙ্গবন্ধু রহমানরেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমগ্রবাঙালিজাতিকেএকদিকনির্দেশনী ভাষণেসর্বপ্রকার পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যপ্রস্ত্তত হতেআহবানজানান।এইভাষণেতিনিবলেন, ''আমিযদিহুকুমদেবারনাওপারি, তোমাদের কাছেআমারঅনুরোধরইল, ঘরেঘরেদূর্গগড়েতোল। ......... এবারেরসংগ্রাম আমাদেরমুক্তির সংগ্রাম, এবারেরসংগ্রাম আমাদেরস্বাধীনতার সংগ্রাম।'' বঙ্গবন্ধুর এইভাষণপৃথিবীতে উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের ভাষণগুলির মধ্যেঅন্যতমএকটিহিসাবেবিবেচিত।

৭ইমার্চের এইভাষণেবঙ্গবন্ধুর এইনির্দেশ কোনদলীয়নেতারনির্দেশ ছিলনা।ছিলএকজনজাতীয়নেতারনির্দেশ। এইনির্দেশ দেশেরসর্বস্তরের ছাত্র, জনতাওবুদ্ধিজীবীদের সাথেবাঙালিসামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা ওকর্মচারী সকলকেইসচেতনকরেতোলে।২রামার্চ৭১থেকেপূর্ববাংলারসমস্তপ্রশাসনিক কাজকর্ম চলতেথাকেবঙ্গবন্ধুর নির্দেশে।

২৩শেমার্চ৭১সকালেপল্টনময়দানেজয়বাংলাবাহিনীর এককুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠান শেষেএইবাহিনীর নেতৃবৃন্দ মিছিলসহকারেবাংলাদেশের পতাকাসহ বঙ্গবন্ধু ভবনেপ্রবেশকরেআনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িতেএইপতাকাউত্তোলন করেন।একইসাথেবঙ্গবন্ধুর গাড়িতেএইপতাকালাগানহয়।২৩শেমার্চপূর্ববাংলারপ্রতিটি শহরেপাকিস্তান দিবসেরঅনুষ্ঠান বর্জিতহয়এবংপাকিস্তানের পতাকারপরিবর্তে বাংলাদেশের পতাকাউড়তেদেখাযায়।

অন্যদিকে ক্ষমতার হস্তান্তরের নামেএইআলোচনাচলাঅবস্থায় পাকিস্তান সামরিকবাহিনীর মুখপাত্র জনাবজুলফিকার আলীভুট্টোসৃষ্টসমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে নতুনকরেসংকটেরসৃষ্টিকরে।অযৌক্তিক দাবিউপস্থাপনের ফলেসুষ্ঠুরাজনৈতিক সমাধানের পথএকসময়রুদ্ধহয়েপড়ে।পাকিস্তান সামরিকশাসকগণস্বার্থান্বেষী মহলেরসাথেষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সামরিকক্ষমতাপ্রয়োগের প্রস্ত্ততি গ্রহণকরে।একটিপরিকল্পিত হত্যাকান্ডের জন্যরাজনৈতিক আলোচনার আড়ালেসামরিকবাহিনীমাত্র২২দিনেদুইডিভিশনঅবাঙালি সৈন্যপাকিস্তান থেকেপূর্ববাংলায়স্থানান্তরে সক্ষমহয়।বাস্তবতায় এটিইছিলতাদেরআলোচনার নামেকালক্ষেপণের মূলউদ্দেশ্য। ২৪শেমার্চ৭১সামরিকশাসকগণহেলিকপ্টার যোগেসমস্তসেনানিবাসে এইআক্রমণের পরিকল্পনা হস্তান্তর করে।বাঙালিজাতিরউপরপাকিস্তান সামরিকবাহিনীর এইকুখ্যাত হত্যাযজ্ঞের নির্দেশ নামা ''অপারেশন সার্চলাইট'' নামেপরিচিতি।

২৫শেমার্চ৭১রাত্র১১টায়পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিত আক্রমণের প্রস্ত্ততি নিয়েসেনানিবাস অথবাআক্রমণপ্রস্ত্ততিস্থানগুলি ত্যাগকরে।একইসাথেঢাকাসহদেশেরসমস্তবড়শহরওসেনানিবাসের বাঙালিরেজিমেন্টসমূহ আক্রান্ত হয়।সেনাবাহিনীর হাতেবঙ্গবন্ধু রাত১২টা৩০মিনিটেধানমন্ডি বাসভবনথেকেবন্দীহবারপূর্বেতিনিদলীয়নেতৃবন্দেকে করণীয়বিষয়েযথাযথনির্দেশ দিয়েঅবস্থান পরিবর্তনের কথাবলেন।একইসাথেতিনিবাংলাদেশকে একটিস্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবেঘোষণাকরেন।বঙ্গবন্ধুর এইঘোষণাবিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়।

১১. অপারেশন সার্চলাইট ও২৫মার্চের গণহত্যাঃ

 

২৫মার্চপাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্বপাকিস্তানের বড়শহরগুলোতে গণহত্যা শুরুকরে।তাদেরপূর্বপরিকল্পিত এইগণহত্যাটি ''অপারেশন সার্চলাইট'' নামেপরিচিত। এগণহত্যার পরিকল্পনার অংশহিসেবেআগেথেকেইপাকিস্তান আর্মিতে কর্মরতসকলবাঙালিঅফিসারদের হত্যাকিংবাগ্রেফতার করারচেষ্টাকরাহয়।ঢাকারপিলখানায়, ঢাকাররাজারবাগ পুলিশলাইন, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের ইবিআরসিসহসারাদেশের সামরিকআধাসামরিক সৈন্যদেরকে নির্মমভাবে হত্যাকরাহয়।এইহত্যাকান্ডের কথাযেনবহির্বিশব নাজানতেপারেসেজন্যআগেইসকলবিদেশিসাংবাদিকদের গতিবিধির উপরনিয়ন্ত্রণ আরোপকরাহয়এবংঅনেককেদেশথেকেবেরকরেদেয়াহয়।তবেওয়াশিংটন পোস্টের বিখ্যাত সাংবাদিক সাইমনড্রিংজীবনেরঝুঁকিনিয়েবাংলাদেশের রিপোর্ট প্রকাশকরেন।এরমধ্যদিয়েবিশ্বএইগণহত্যা সম্পর্কে অবগতহয়।আলোচনার নামেপ্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কালক্ষেপণও এইগণহত্যা পরিকল্পনারই অংশছিল।

২৫মার্চরাতপ্রায়সাড়েএগারোটার দিকেপাকিস্তানি বাহিনীতাদেরহত্যাযজ্ঞ শুরুকরে।পাকিস্তানিদের অপারেশনের অন্যতমপ্রধানলক্ষ্যঢাকাবিশববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুলহকহলএবংজগন্নাথ হলেরছাত্রদের নির্বিচারে হত্যাকরাহয়।ঢাকাবিশববিদ্যালয় ওআশেপাশের বহুসংখ্যকশিক্ষকওসাধারণকর্মচারিদেরও হত্যাকরাহয়।পুরোনোঢাকারহিন্দুসম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও চালানোহয়ব্যাপকগণহত্যা। রাজারবাগ পুলিশলাইনেআক্রমণকরেহত্যাকরাহয়পুলিশবাহিনীর বহুসদস্যকে। পিলখানার ইপিআর-এর কেন্দ্রে আচমকাআক্রমণচালিয়েনির্বিচারে হত্যাকরাহয়নিরস্ত্র সদস্যদের। কয়েকটিপত্রিকা অফিসভস্মীভূত করাহয়।দেশময়ত্রাসসৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বিচারে হত্যাকরাহয়বিভিন্ন এলাকায়ঘুমন্তনর-নারীকে। হত্যা করা হয়শিশুওবয়স্কব্যক্তিদেরও। ধারণাকরাহয়, সেইরাত্রিতে একমাত্র ঢাকাওতারআশেপাশেরএলাকাতে প্রায়একলক্ষনিরীহনর-নারীর জীবনাবসান ঘটে।

১২. স্বাধীনতার ঘোষণাঃ

 

তিনিপাকিস্তানি সশস্ত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রামের জন্যবাংলারজনগণকেআহবানজানান।চট্ট্রগ্রামে তৎকালীন ইস্টপাকিস্তান রাইফেলসের ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে প্রচারের জন্যপাঠানোহয়।২৬মার্চচট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্র থেকেবঙ্গবন্ধু ঘোষণাকে অবলম্বন করেচট্টগ্রাম আওয়ামীলীগনেতাএম. এহান্নান স্বাধীনতার ঘোষণাপাঠকরেন।২৭মার্চঅপরাহ্নে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে৮মইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজরজিয়াউররহমানবঙ্গবন্ধু শেখমুজিবের পক্ষেস্বাধীনতার আরেকটিঘোষণাপাঠকরেন।এইঘোষণাটিতে তিনিউল্লেখকরেনযে, বাংলাদেশে শেখমুজিবররহমানের নেতৃত্বে একটিস্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠিতহয়েছে।তিনিআরোউল্লেখকরেনযে, নবগঠিতএইরাষ্ট্রের সরকারজোটবদ্ধ নাহয়েবিশেবরঅপররাষ্ট্রগুলোর সাথেবন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টিতে আগ্রহী। এছাড়াওএঘোষণায়সারাবিশেবরসরকারগুলোকে বাংলাদেশে সংঘটিতগণহত্যার বিরুদ্ধে জনমতগড়েতোলারওআহ্বানজানানোহয়। (বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র: মুজিবনগর প্রশাসন, তৃতীয়খন্ড, প্রকাশকাল: নভেম্বর ১৯৮২)

১৩. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠনঃ

১০ইএপ্রিল৭১নির্বাচিত সাংসদগণ আগরতলায় একত্রিত হয়েএকসর্বসস্মত সিদ্ধান্তে সরকারগঠনকরেন।এইসরকারস্বাধীন সার্বভৌম ''গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার''। স্বাধীনতার সনদ (Charter of Independence) বলে এইসরকারের কার্যকারিতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হয়।১৭ইএপ্রিল৭১মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামেবৈদ্যনাথ তলায় ''গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার'' আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণকরেন।রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির এইসরকারের মন্ত্রী পরিষদসদস্যদের শপথপাঠকরানজাতীয়সংসদেরস্পীকার অধ্যাপক ইউসুফআলী।যেসমস্তনেতৃবৃন্দকে নিয়েগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারগঠিতহয়তাঁরাহলেনঃ

১।   রাষ্ট্রপতি             বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান (পাকিস্তানে বন্দী)

২।   উপ-রাষ্ট্রপতি        সৈয়দ নজরুলইসলাম (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি)

৩।   প্রধানমন্ত্রী           আহমেদ (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

৪।   অর্থমন্ত্রী             ক্যাপ্টেন মনসুরআলী (শিল্পওবাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

৫।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী         খন্দকার মোশতাক আহমেদ (আইনমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

৬।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী          এ এইচ এমকামরুজ্জামান (ত্রাণওপুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

এইঅনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দনজরুলইসলামভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে (বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে) এবংকর্নেলএমএজিওসমানীমুক্তিবাহিনীর প্রধানসেনাপতি হিসাবেদায়িত্ব পালনকরবেনবলেসরকারীসিদ্ধান্ত গৃহীতহয়।দেশবিদেশের শতাধিকসাংবাদিক ওহাজারহাজারদেশবাসীর উপস্থিতিতে এইশপথগ্রহণঅনুষ্ঠান পরিচালনা করেনসাংসদজনাবআবদুলমান্নান। নবগঠিতসরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ডঅবঅনারদেয়াহয়।বাঙালির প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানের নামেএইস্থানটির নামকরণকরাহয় ''মুজিবনগর''।

মুক্তিযুদ্ধ ছিলএকটিজনযুদ্ধ। দেশেরসর্বস্তরের মানুষএইযুদ্ধেঅংশগ্রহণ করে।রাজনৈতিকভাবে এইযুদ্ধকে সার্বজনীন করারলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারসর্বসম্মতিক্রমে একটি ''সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'' গঠনকরেন।এইউপদেষ্টা পরিষদের সদস্যছিলেনঃ

ক) জনাবআব্দুলহামিদখানভাসানী  (সভাপতি)--ন্যাপ ভাসানী

খ) শ্রীমনিসিং                           (সভাপতি)--বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি

গ) অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ      (সভাপতি)--ন্যাপমোজাফ্ফর

ঘ) শ্রীমনোরঞ্জন ধর                    (সভাপতি)--বাংলাদেশ জাতীয় কংগ্রেস

ঙ) জনাবতাজউদ্দিন আহমেদ          (প্রধানমন্ত্রী)--পদাধিকারবলে

চ) খন্দকার মোশতাকআহমেদ         (পররাষ্ট্রমন্ত্রী)--পদাধিকারবলে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারঅত্যন্ত দক্ষতার সাথে৯মাসব্যাপী সশস্ত্র এইমুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন।মুক্তিবাহিনীর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, অস্ত্রগোলাবারুদ সরবরাহ, খাদ্যওচিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সরকারপ্রায়এককোটিশরণার্থীর দায়িত্বভার গ্রহণকরেন।কূটনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বের কাছেমুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতায় উপস্থাপনসহ এবংএকটিসময়উপযোগীপ্রশাসনিক কাঠামোগড়েতুলতেসক্ষমহন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী ওতাদেরসহযোগীরাজাকারদের অত্যাচারে প্রায়এককোটিবাঙালিদেশত্যাগকরেপার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতেআশ্রয়নিতেবাধ্যহয়।ভারতসরকারওভারতেরজনগণদেশত্যাগী এইজনগোষ্ঠীর সার্বিক সাহায্যে এগিয়েআসেন।ভারতসরকারবাংলাদেশ সরকারকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা দানকরেন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোয় কর্মরতগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গঃ

১।যেসমস্তরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রশাসনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারাখেনঃ

ক)     রাষ্ট্রপতির পররাষ্ট্র বিষয়কউপদেষ্টা                জনাবআবদুসসামাদআজাদ, এমএনএ

খ)      প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা                                 ব্যারিষ্টার আমিরুলইসলাম, এমএনএ

গ)      তথ্যমন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত                           জনাবআবদুলমান্নান, এমএনএ

ঘ)      জয়বাংলাপত্রিকার উপদেষ্টা                        জনাবজিল্লুর রহমান, এমএনএ

ঙ)      যুবশিবিরনিয়ন্ত্রণ পরিষদচেয়ারম্যান            অধ্যাপক ইউসুফআলী, এমএনএ

২। বেসামরিক প্রশাসনঃ

ক)     ক্যাবিনেট সচিব                                     জনাবহোসেনতৌফিকইমাম (এইচটিইমাম)

খ)      মুখ্যসচিব                                          জনাব রুহুল কুদ্দুস

গ)      সংস্থাপন সচিব                                     জনাবনূরুলকাদেরখান

ঘ)      অর্থসচিব                                          জনাবখন্দকার আসাদুজ্জামান

ঙ)      পররাষ্ট্র সচিব                                      জনাবমাহাবুবুল আলমচাষীএবংজনাবআবুলফতেহ

চ)      প্রতিরক্ষা সচিব                                     জনাবএমএসামাদ

ছ)      স্বরাষ্ট্র সচিব                                        জনাবএখালেক

জ)     স্বাস্থ্য সচিব                                          জনাবএসটিহোসেন

ঝ)     তথ্যসচিব                                           জনাবআনোয়ারুল হকখান

ঞ)     কৃষিসচিব                                           জনাবনুরউদ্দিন আহমেদ

ট)      আইনসচিব                                         জনাবএহান্নান চৌধুরী

৩। কুটনৈতিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে যে সমস্ত ব্যক্তিবর্গ মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্ববাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিলেনঃ

ক)     মিশনপ্রধানযুক্তরাজ্য                          বিচারপতি আবুসাঈদচৌধুরী (বহিঃর্বিশ্বে সরকারের বিশেষদূত)

খ)      মিশনপ্রধানকলিকাতা                         জনাবহোসেনআলী

গ)      মিশনপ্রধাননতুনদিল্লী                       জনাবহুমায়ুন রশীদচৌধুরী

ঘ)      মিশনপ্রধানযুক্তরাষ্ট্র, কানাডা               জনাবএমআরসিদ্দিকী

ঙ)      মিশনদায়িত্বপ্রাপ্ত ইরাক                        জনাবআবুফতেহ

চ)      মিশনদায়িত্বপ্রাপ্ত সুইজারল্যান্ড                জনাবঅলিউররহমান

ছ)      মিশনদায়িত্বপ্রাপ্ত ফিলিপাইন                  জনাবকেকেপন্নী

জ)     মিশনদায়িত্বপ্রাপ্ত নেপাল                       জনাবমোস্তাফিজুর রহমান

ঝ)     মিশনদায়িত্বপ্রাপ্ত হংকং                        জনাবমহিউদ্দিন আহমেদ

ঞ)     মিশনদায়িত্বপ্রাপ্ত জাপান                       জনাবএরহিম

ট)      মিশনদায়িত্বপ্রাপ্ত লাগোস                      জনাবএমএজায়গীরদার

৪। স্বাধীন বাংলাদেশের গণমুখী প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো কি হবে সেই লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধকালীন

বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে পরিকল্পনা কমিশন একটি রূপরেখা প্রণয়ন করে। যে সমস্ত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি

এই পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন তাঁরা হলেনঃ

(ক)     ডঃ মোজাফ্ফর আহমেদচৌধুরী

(খ)     ডঃ মোশারাফ হোসেন

(গ)     ডঃ খানসরওয়ারমুরশিদ

(ঘ)     ডঃ এমআনিসুজ্জামান

(ঙ)     ডঃ স্বদেশবোস।

৫।মুক্তএলাকায়সুষ্ঠুপ্রশাসনিক কাঠামোগড়েতোলাএবংভারতেঅবস্থান গ্রহণকারী শরণার্থীদের দেখাশুনা ওযুবশিবিরপরিচালনার জন্যসরকারসমস্তবাংলাদেশকে ১১টিপ্রশাসনিক অঞ্চলেবিভক্তকরেন।প্রতিটি প্রশাসনিক এলাকায়চেয়ারম্যান ওপ্রশাসক নিয়োগকরেন।

১৪. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রঃ

মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের এবংঅবরুদ্ধ এলাকারজনগণেরমনোবলঅক্ষুন্ন রাখারক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলাবেতারকেন্দ্র বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাপালনকরে।এইস্বাধীন বাংলাবেতারকেন্দ্র থেকেবাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ওমন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নীতিনির্ধারণী ভাষণসহজনগণেরউদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্দেশাবলী প্রচারিত হয়।প্রতিদিনের সংবাদসহ যেসমস্তঅনুষ্ঠান জনপ্রিয়তা অর্জনকরেছিলতারমধ্যেচরমপত্র ওজল্লাদের দরবারঅন্যতম। যেসমস্তব্যক্তির অক্লান্ত পরিশ্রমে স্বাধীন বাংলাবেতারকেন্দ্র এইজনপ্রিয়তা অর্জনকরেছিলতাঁরাহলেনঃ

সর্বজনাব এমএমান্নান এমএনএ, জিল্লুর রহমানএমএনএ, শওকতওসমান, ডঃএআরমল্লিক, ডঃমযহারুল ইসলাম, ডঃআনিসুজ্জামান, সিকান্দার আবুজাফর, কল্যাণমিত্র, ফয়েজআহমদ, আবদুলগাফ্ফার চৌধুরী, এমআরআখতারমুকুল, তোয়াবখান, আসাদচৌধুরী, কামাললোহানী, আলমগীরকবীর, মহাদেবসাহা, আলীযাকের, সৈয়দহাসানইমাম, নির্মলেন্দু গুণ, আবুলকাসেমসন্দ্বীপ, বেলালমোহাম্মদ, আবদুলজববার, আপেলমাহমুদ, রর্থীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরীকিবরিয়া, ডাঃঅরূপরতনচৌধুরী, রফিকুলইসলাম, সমরদাস, অজিতরায়, রাজুআহামেদ, মামুনুর রশীদ, বেগমমুশতারী শফি, শাহীনমাহমুদ, কল্যাণী ঘোষ, ডালিয়ানওশীন, মিতালীমুখার্জী, বুলবুলমহলানবীশ, শামসুলহুদাচৌধুরী, আশফাকুর রহমানখান, সৈয়দআবদুসসাকেরসহ অনেকে।

১৫. বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীঃ

যেজনযুদ্ধ এনেছেপতাকা, সেইজনযুদ্ধের দাবিদার এদেশেরসাতকোটিবাঙালি। একটিসশস্ত্র যুদ্ধদেশকেশত্রুমুক্ত করে।এইসশস্ত্র যুদ্ধএকটিনির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।পরিকল্পিত এইযুদ্ধপরিচালনার জন্য১০ইএপ্রিল '৭১বাংলাদেশ সরকারসমগ্রবাংলাদেশকে ৪টিযুদ্ধঅঞ্চলে বিভক্তকরেন।এই৪টিঅঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেনঃ

ক)     চট্টগ্রাম অঞ্চল - মেজরজিয়াউররহমান

খ)      কুমিল্লা অঞ্চল - মেজরখালেদমোশাররফ

গ)      সিলেটঅঞ্চল - মেজরকেএমসফিউল্লাহ

ঘ)      দক্ষিণপশ্চিম - অঞ্চলমেজরআবুওসমানচৌধুরী

পরবর্তীতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বিভক্তকরেরাজশাহী অঞ্চলেমেজরনাজমুলহক, দিনাজপুর অঞ্চলেমেজরনওয়াজেস উদ্দিনএবংখুলনাঅঞ্চলেমেজরজলিলকেদায়িত্ব দেয়াহয়।৭ইজুলাই৭১যুদ্ধের কৌশলগতকারণেসরকারনিয়মিতপদাতিকব্রিগেড গঠনেরপরিকল্পনায় 'জেডফোর্স' ব্রিগেড গঠনকরেন।এইজেডফোর্সের অধিনায়ক হলেনলেঃকর্নেলজিয়াউররহমান।একইভাবেসেপ্টেম্বর মাসে 'এসফোর্স' এবং১৪ইঅক্টোবর 'কেফোর্স' গঠনকরাহয়।কেফোর্সের অধিনায়ক ছিলেনলেঃকর্নেলখালেদমোশাররফ এবংএসফোর্সের অধিনায়ক ছিলেনলেঃকর্নেলকে. এম. সফিউল্লাহ।

১০ইজুলাই৭১থেকে১৭ইজুলাই৭১পর্যন্ত মুক্তিবাহিনী সদরদপ্তরেপ্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে যুদ্ধঅঞ্চলের অধিনায়কদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এইঅধিবেশনে বাংলাদেশকে ১১টিযুদ্ধসেক্টরে বিভক্তকরেসেক্টরকমান্ডার নিযুক্ত করাহয়।এইকমান্ডারগণ ছিলেনঃ

সেক্টর   অধিনায়ক যুদ্ধএলাকাওতথ্য

সেক্টর-এক---- মেজর রফিকুলইসলাম    (চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ওনোয়াখালী জেলারফেনীমহকুমার অংশবিশেষ (মুহুরীনদীরপূর্বপাড় পর্যন্ত)।এইসেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল পাঁচটি। সেক্টরট্রুপস্ ছিল২১০০সৈন্যএবংগেরিলাছিল২০,০০০।

সেক্টর-দুই----মেজর খালেদমোশাররফ    (কুমিল্লা জেলারঅংশ, ঢাকাজেলাওফরিদপুর জেলারঅংশএইসেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল ছয়টি)। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল৪,০০০ সৈন্য এবংগেরিলাছিল৩০,০০০।

সেক্টর-তিন----মেজর কেএমশফিউল্লাহ   (কুমিল্লা জেলারঅংশ, ময়মনসিংহ জেলারঅংশ, ঢাকাওসিলেটজেলারঅংশ)।এই সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল সাতটি।সেক্টরট্রুপস্ ছিল৬৬৯৩সৈন্যএবংগেরিলাছিল২৫,০০০।

সেক্টর-চার----মেজর সিআরদত্ত          (সিলেটজেলারঅংশ।এইসেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল ছয়টি)। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল৯৭৫সৈন্যএবংগেরিলাছিল৯,০০০।

সেক্টর-পাঁচ----মেজর মীরশওকতআলী       সিলেটজেলারঅংশওময়মনসিংহ জেলারঅংশ।এইসেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল ছয়টি।সেক্টরট্রুপস্ ছিল১৯৩৬সৈন্যএবংগেরিলাছিল৯,০০০।

সেক্টর-ছয়---- উইং কমান্ডার এমখাদেমুল বাশার       রংপুরজেলাওদিনাজপুর জেলারঅংশ।এইসেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল পাঁচটি। সেক্টরট্রুপস্ ছিল২৩১০সৈন্যএবংগেরিলাছিল১১,০০০।

সেক্টর-সাত----মেজর নাজমুলহক     রংপুরজেলারঅংশ, রাজশাহী জেলারঅংশ, পাবনাজেলারঅংশওদিনাজপুর জেলারঅংশ, বগুড়াজেলা।এইসেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল নয়টি।সেক্টরট্রুপস্ ছিল২৩১০সৈন্যএবংগেরিলাছিল১২,৫০০। সেপ্টেম্বর মাসেসড়কদুর্ঘটনায় মেজরনাজমুলহকনিহতহওয়ারপরলেঃকর্নেলকাজীনুরুজ্জামান সেক্টরঅধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণকরেন।

সেক্টর-আট----মেজর আবুওসমানচৌধুরী     যশোরজেলা, ফরিদপুর জেলা, কুষ্টিয়া জেলা, খুলনাওবরিশালজেলারঅংশ।এইসেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল সাতটি।সেক্টরট্রুপস্ ছিল৩৩১১সৈন্যএবংগেরিলাছিল৮,০০০। ১৮ই আগস্টলেঃকর্নেলএমআবুলমঞ্জুরসেক্টরঅধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণকরেন।

সেক্টর-নয়---- মেজর আবদুলজলিল   বরিশালজেলারঅংশ, পটুয়াখালী জেলা, খুলনা, ফরিদপুর জেলারঅংশ।এইসেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল তিনটি।সেক্টরট্রুপস্ ছিল৩৩১১সৈন্যএবংগেরিলাছিল৮,০০০।

সেক্টর-দশ----প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণে (নৌসেক্টর)সমগ্র বাংলাদেশ। এইসেক্টরটি গঠিতহয়েছিলনৌ-কমান্ডোদের দিয়ে। বিভিন্ন নদীবন্দরওশক্রপক্ষেরনৌ-যানগুলোতে অভিযান চালানোর জন্যএঁদেরবিভিন্ন সেক্টরে পাঠানোহতো।লক্ষ্যবস্ত্তর গুরুত্ব এবংপাকিস্তানিদের প্রস্ত্ততি বিশ্লেষণ করেঅভিযানে সাফল্যনিশ্চিত করারবিষয়টিবিবেচনায় আনাহতোএবংতারওপরনির্ভরকরতঅভিযানে অংশগ্রহণকারী দলসমূহে যোদ্ধার সংখ্যাকতহবে।যেসেক্টরএলাকায়কমান্ডো অভিযানচালানোহতো, কমান্ডোরা সেইসেক্টরকমান্ডারের অধীনেকাজকরত।নৌ-অভিযান শেষে তারাআবারতাদেরমূলসেক্টর- ১০নম্বরসেক্টরের আওতায়চলেআসত।নৌ-কমান্ডোর সংখ্যা ছিল ৫১৫জন।

সেক্টরএগার----মেজর আবু তাহের।     ময়মনসিংহ জেলারঅংশ, সিলেটজেলারঅংশওরংপুরজেলারঅংশ।এইসেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল সাতটি।সেক্টরট্রুপস্ ছিল২৩১০সৈন্যএবংগেরিলাছিল২৫,০০০। মেজর আবুতাহের১৪নভেম্বর আহতহওয়ারপরএইসেক্টরের দায়িত্ব কাউকেওদেয়াহয়নি।

১৬. মুক্তিবাহিনী সদর দপ্তরঃ

ক) প্রধানসেনাপতি মুক্তিবাহিনী                        কর্নেলএমএজিওসমানী

খ) সেনাবাহিনী প্রধান                                    কর্নেলআবদুররব

গ) বিমানবাহিনী প্রধানওউপ-সেনা প্রধান           গ্রুপ ক্যাপ্টেন একেখন্দকার

ঘ) ডাইরেক্টর জেনারেল মেডিকেল সার্ভিস            মেজর শামছুল আলম

পাকিস্তান সেনাবাহিনী ত্যাগকরেমোট১৩১জনঅফিসারমুক্তিবাহিনীতে যোগদানকরেনওযুদ্ধেঅংশগ্রহণকরেন।৫৮জনতরুণমুক্তিযোদ্ধা ভারতেরমূর্তিঅফিসারপ্রশিক্ষণ একাডেমী থেকেপ্রশিক্ষণ লাভকরেযুদ্ধেযোগদানকরেন।একোর্স-কে প্রথম বাংলাদেশ সর্টসার্ভিস কোর্সবলাহয়।৬৭জনতরুণমুক্তিযোদ্ধাকে দ্বিতীয় সর্টসার্ভিস কোর্সেভর্তিকরাহয়এবংতারা১৯৭২সনেকমিশনপ্রাপ্ত হন। মুক্তিযুদ্ধে ১৩জনসামরিকঅফিসারযুদ্ধঅবস্থায় শাহাদাত বরণকরেন।৪৩জনসামরিকঅফিসারকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২৫মার্চএবংতারকয়েকদিনের মধ্যেহত্যাকরে।

১৭. মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীঃ

ক।পাকিস্তান বিমানবাহিনীত্যাগকরেআসাবাঙ্গালী অফিসার, ক্যাডেট ওবিমানসেনারা সেপ্টেম্বর ১৯৭১পর্যন্ত স্থলযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।মোটপ্রায়৩৫জনঅফিসারওক্যাডেট এবংপ্রায়৫০০বিমানসেনা পাকিস্তান পক্ষত্যাগকরেমুক্তিযুদ্ধে যোগদানকরেন।এইসববিমানবাহিনীর সদস্যরা যদিওস্থলযুদ্ধে খুবইবিরোচিত ভুমিকারাখছিলেন তবুওতাদেরমধ্যেএকটিস্বাধীন বিমানবাহিনীগঠনেরচেতনাখুবপ্রবলভাবেকাজকরছিল।এইচেতনানিয়েইকিছুসংখ্যকমুক্তিযোদ্ধা পাইলটভারতীয়বিমানবাহিনী, ভারতীয়সরকারএবংবাংলাদেশ ফোর্সেস (বিডিএফ) এরসাথেবিভিন্ন রকমেরআলোচনাচালিয়েযাচ্ছিলেন।

খ।কিলোফ্লাইট : ১৯৭১এরসেপ্টেম্বর এরমাঝামাঝি ভারতসরকারঅস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারকে একটিস্বাধীন বিমানবাহিনীগঠনেরজন্যআমেরিকায় তৈরী১টিপুরানোডিসি-৩ বিমান, কানাডার তৈরী১টিঅটারবিমানএবংফ্রান্সের তৈরী১টিএ্যালুয়েট-৩হেলিকপ্টার দেয়।এরসাথেভারতেরনাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে একটিদ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরিত্যক্ত রানওয়েব্যবহারের অনুমতিদেয়।এইসীমিতসম্পদনিয়েবাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যাত্রাশুরুহয়।বিমানবাহিনীপ্রধানহিসাবেমুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন একেখন্দকারকে নিয়োগদেওয়াহয়।সশস্ত্র বিমানবাহিনীগঠনেগোপনীয়তা রক্ষার্থে এরগুপ্তনামহয় 'কিলোফ্লাইট'। 'কিলো ফ্লাইটের' অস্তিত্ব বিডিএফএবংগোটাকয়েকজনগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছাড়াআরকেউজানতেননা।কিলোফ্লাইটে বিমানবাহিনীর পাইলটদের পাশাপাশি বেশকয়েকজনপিআইএএবংপ্লান্ট প্রটেকশনের পাইলটএসেযোগদেন।বিভিন্ন সেক্টরহতেযুদ্ধরত মোট৫৮জনবিমানসেনাকে এইফ্লাইটে নিয়েআসাহয়।এইফ্লাইটের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়াহয়স্কোঃলীঃসুলতানমাহমুদকে। এইসবঅত্যুৎসাহী বিমানবাহিনীসদস্যদের সমন্বয়ে ১৯৭১এর২৮সেপ্টেম্বর সশস্ত্র বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর উদ্ধোধন হয়।শুরুহয়কঠোরপ্রশিক্ষণ। এইফ্লাইট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট এলাকায়মোট৫০টিঅভিযানসাফল্যের সঙ্গেপরিচালনা করে।এদেরমধ্যেমোগলহাটে (১৫অক্টোবর ৭১), লালমনিরহাট ওঠাকুরগাঁয়ে (১৬অক্টোবর ৭১), চৌগাছায় (২১নভেম্বর ৭১), গোদনাইল ওপতেঙ্গায় (৩ডিসেম্বর ৭১), সিলেটে (৪ডিসেম্বর ৭১), জামালপুরে (৫ডিসেম্বর ৭১), মেঘনানদীতে (৬ডিসেম্বর ৭১), সিলেটে (৭ডিসেম্বর ৭১) এবংনরসিংদীতে (১১ডিসেম্বর ৭১) বিমানহামলাবিশেষউল্লেখযোগ্য।

১৮. মুক্তিযুদ্ধে নৌ-বাহিনীঃ

মহানমুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ওগৌরবময়ভূমিকারয়েছে।১৯৭১সালেপাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মহানস্বাধীনতা সংগ্রামের সময়বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধীনেবাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্মহয়।১৯৭১সালেরজুলাইমাসেঐতিহাসিক সেক্টরকমান্ডারদের কনফারেন্সের ঘোষণামোতাবেক বাংলাদেশ নৌবাহিনীআনুষ্ঠানিক যাত্রাশুরুকরে।উল্লেখযোগ্য সংখ্যকবাঙ্গালী অফিসারওনাবিকগণ পশ্চিমপাকিস্তান ত্যাগকরেদেশেএসেবাংলাদেশ নৌবাহিনীগঠনকরেন।ভারতথেকেপ্রাপ্ত 'পদ্মা' ও 'পলাশ' নামেরছোটদুটিগানবোটএবং৪৯জননাবিকনিয়েযাত্রাশুরুকরেবাংলাদেশ নৌবাহিনী। জীবনেরঝুঁকিনিয়েএসমস্তনাবিকগণ শত্রুরবিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধওগেরিলাযুদ্ধেলিপ্তহন।পাশাপাশি ' অপারেশন জ্যাকপট' নামেনির্ভীক ডুবুরীদল সমুদ্রওনদীবন্দরসমূহেবিধংসীআক্রমণপরিচালনা করেন।এতেহানাদার বাহিনীর ২৬টিজাহাজধ্বংসহয়ওসমুদ্রপথকার্যতঃ অচলহয়েপড়ে।নৌবাহিনীর অপারেশনের মধ্যেহিরণপয়েন্টের মাইনআক্রমণ (১০নভেম্বর ৭১), মার্কিন ওব্রিটিশ নৌযানধ্বংস (১২নভেম্বর ৭১), চালনাবন্দরেনৌহামলা (২২নভেম্বর ৭১), চট্টগ্রাম নৌঅভিযান (০৫ডিসেম্বর ৭১), পাকিস্তান নৌঘাঁটিপিএনএসতিতুমীর অভিযান (১০ডিসেম্বর ৭১) উল্লেখযোগ্য। মহানমুক্তিযুদ্ধে নৌবাহিনীর দুঃসাহসিক অভিযানে শক্রপক্ষ নৌপথেদিশেহারা হয়েপড়ে।মহানমুক্তিযুদ্ধে বহুসংখ্যক নৌসদস্যশাহাদৎবরণকরেন।তাঁদেরবীরত্বওআত্নত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপশহীদরুহুলআমিন, ইআরএ-১, কে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রদানকরাহয়।এছাড়া০৫জনকেবীরউত্তম, ০৮জনকেবীরবিক্রমএবং০৭জনকেবীরপ্রতীকখেতাবেভূষিতকরাহয়।জাতিমহানমুক্তিযুদ্ধে নৌবাহিনীর ভূমিকাকে গভীরশ্রদ্ধাভরে স্মরণকরে।

১৯. ব্রিগেড সংগঠন ও অপারেশনঃ

মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকটাছিলগেরিলাভিত্তিক কিন্তুএভাবেগেরিলাযুদ্ধপাকিস্তানি বাহিনীর সুশিক্ষিত সৈন্যদের পদানতকরারক্ষেত্রে যথেষ্টভূমিকারাখতেপারছিলনা।ফলেযুদ্ধক্ষেত্রে গতিশীলতা আনয়নওমুক্তাঞ্চল গঠনেরলক্ষ্যে সেনাবাহিনীর গঠনবিন্যাসের পরিবর্তন আনারপরিকল্পনা গৃহীতহয়।এপ্রিলমাসেমুজিবনগর সরকারগঠিতহলেপ্রধানসেনাপতি কর্নেলএমএজিওসমানীসেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়েনিয়মিতব্রিগেড গঠনেরপরিকল্পনা গ্রহণকরেন।সম্মুখসমরেরপাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংগেযুদ্ধেলিপ্তহওয়ারজন্যতিনটিনিয়মিতব্রিগেড গঠনকরাহয়।এরাহচ্ছেঃ

ক) জেড ফোর্স- লেঃ কর্নেলজিয়াউররহমানের নামানুসারে জুলাই৭১সনের৭ইজুলাইগঠিতহয়এইবিগ্রেড যারনামকরাহয়জেডফোর্স।এইফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল১ইস্টবেঙ্গলরেজিমেন্ট, ৩ইস্টবেঙ্গলরেজিমেন্ট, ৮ইস্টবেঙ্গলরেজিমেন্ট, ২ফিল্ডব্যাটারি আর্টিলারি ওএকটিসিগন্যাল কোম্পানী। জুলাই৭১থেকেসেপ্টেম্বর ৭১পর্যন্ত জেডফোর্সময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুরওরৌমারীএলাকায়যুদ্ধরত থাকে।অক্টোবর থেকেচূড়ান্ত বিজয়পর্যন্ত তারাসিলেট, সুনামগঞ্জ ওমৌলভীবাজার এলাকায়যুদ্ধেঅংশগ্রহণকরে।জেডফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধসমূহছিলকামালপুর যুদ্ধ, বাহাদুরাবাদ ঘাটঅপারেশন, দেওয়ানগঞ্জ থানাআক্রমণ, নকসীবিওপিআক্রমন, চিলমারীর যুদ্ধ, হাজীপাড়ার যুদ্ধ, ছোটখাল, গোয়াইনঘাট, টেংরাটিলা, গোবিন্দগঞ্জ, লামাকাজি, সালুটিকর বিমানবন্দর, ধলই, ধামাইচাবাগান, জকিগঞ্জ, আলিময়দান, সিলেটএমসিকলেজ, ভানুগাছা, কানাইঘাট, ফুলতলাচাবাগান, বড়লেখা, লাতু, সাগরনাল চাবাগান, ছাতকওরাধানগর।

খ) কে ফোর্স- লেঃ কর্নেলখালেদমোশাররফের নামানুসারে সেপ্টেম্বর ৭১সনেগঠিতহয়এইবিগ্রেড যারনামকরাহয়কেফোর্স।এইফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল৪ইস্টবেঙ্গলরেজিমেন্ট, ৯ইস্টবেঙ্গলরেজিমেন্ট, ১০ইস্টবেঙ্গলরেজিমেন্ট, ১ফিল্ডব্যাটারি (মুজিবব্যাটারী) আর্টিলারি ওএকটিসিগন্যাল কোম্পানী। কেফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধসমূহছিলদেউশমন্দভাগ অভিযান, শালদানদীঅভিযান, পরশুরাম, চিতলিয়া, ফুলগাজী, নিলক্ষ্মীর যুদ্ধ, বিলোনিয়ার যুদ্ধ, চাপিলতার যুদ্ধ, কুমিল্লা শহরেরযুদ্ধ, নোয়াখালীর যুদ্ধ, কশবারযুদ্ধ, বারচরগ্রাম যুদ্ধ, মিয়াবাজার যুদ্ধ, গাজীপুর যুদ্ধ, সলিয়াদীঘি যুদ্ধ, ফেনীযুদ্ধ, চট্টগ্রাম বিজয়ওময়নামতি বিজয়।

গ) এস ফোর্স- লেঃ কর্নেলকেএমসফিউল্লাহর নামানুসারে অক্টোম্বর ৭১সনেগঠিতহয়এইবিগ্রেড যারনামকরাহয়এসফোর্স।এইফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল২ইস্টবেঙ্গলরেজিমেন্ট, ১১ইস্টবেঙ্গলরেজিমেন্ট, এসফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধসমূহছিলধর্মগড়আক্রমন, মনোহরদী অবরোধ, কলাছড়াঅপারেশন, বামুটিয়া অপারেশন, আশুগঞ্জ অপারেশন, মুকুন্দপুর যুদ্ধ, আখাউড়াযুদ্ধ, ব্রাহ্মণবাড়ীয় যুদ্ধ, ভৈরবওআশুগঞ্জ যু্দ্ধ, কিশোরগঞ্জ যুদ্ধ, হরশপুরযু্দ্ধ, নরসিংদী যুদ্ধওবিলোনিয়ার যুদ্ধ।

২০. বি এল এফ (মুজিব বাহিনী):

বিশালএইজনযুদ্ধে ছাত্রওযুবকশ্রেণীউল্লেখযোগ্য ভূমিকারাখে।স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভুমিতে ছাত্রআন্দোলনের অবস্থান ছিলঅত্যন্ত দৃঢ়।৬০দশকেরমাঝামাঝি এইছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে একটিদীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পরিকল্পনায় সংগঠিতহয়েরাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্রদের সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্ত্ততি সমন্বিত করে।নেতৃস্থানীয় প্রায়১০,০০০ (দশ হাজার) ছাত্রকে এইবিশেষপ্রশিক্ষণ দেয়াহয়।সমগ্রবাংলাদেশকে ৪টিরাজনৈতিক যুদ্ধঅঞ্চলেবিভক্তকরেএইসমস্তছাত্রদেরকে নিজনিজএলাকারভিত্তিতে অবস্থান নেয়ারজন্যপ্রেরণকরাহয়।

এই৪টিঅঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকারী নেতৃবৃন্দ ছিলঃ

ক) পূর্বঅঞ্চল              জনাবশেখফজলুলহকমনিওজনাবআসমআবদুররব

খ) উত্তরঅঞ্চল            জনাব সিরাজুল আলমখানওজনাবমনিরুলইসলাম

গ) পশ্চিমঅঞ্চল           জনাব আবদুররাজ্জাক ওজনাবসৈয়দআহমদ

ঘ) দক্ষিণঅঞ্চল           জনাব তোফায়েল আহমদওজনাবকাজীআরেফআহমেদ

প্রশিক্ষণ শিবিরেকর্মরতছিলেনঃজনাবনূরেআলমজিকু, হাসানুল হকইনু, শরীফনূরুলআম্বিয়া, আফমমাহবুবুল হকওমাসুদআহমেদরুমীসহঅনেকে।বাংলাদেশ কমুনিষ্ট পার্টির তত্ত্বাবধানে ছাত্রসংগঠনসংগঠিতহয়।এইসশস্ত্র যুবশ্রেণীকে নেতৃত্ব দেনজনাবহারুনুর রশীদ, নূরুলইসলামনাহিদ, মুজাহিদুল ইসলামসেলিমসহ অনেকে।এছাড়াওজনাবকাদেরসিদ্দিকীর নেতৃত্বে এলাকাভিত্তিক গড়েওঠাটাংগাইল মুক্তিবাহিনীর নামউল্লেখ্যযোগ্য।

২১. স্বাধীন বাংলা বেতারঃ

১৯৭১পাকিস্তান বিমানবাহিনীআক্রমণে তাধ্বংসকরাহয়।এরপরকিছুদিনআগরতলাতে এবংতারপর২৫মে১৯৭১কলকাতাথেকেসম্প্রচার নিয়মিতশুরুকরাহয়।মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলাবেতারবিশালঅবদানরাখে।চরমপত্র, রণাংগনকথিকা, রক্তস্বাক্ষর, মুক্তিবাহিনীর জন্যপ্রচারিত অনুষ্ঠান অগ্নিশিক্ষা, দেশাত্ত্ববোধক গানইত্যাদি মুক্তিযোদ্ধা ওবাংলাদেশের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল।

২২. গণমাধ্যমঃ

বিভিন্ন দেশেসংবাদপত্র প্রকাশকরা।এইসবসংবাদপত্রে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা, বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ওনির্দেশাবলী, নেত্রবৃন্দের বিবৃতিওতৎপরতা, প্রবাসী বাঙ্গালীদের আন্দোলনের খবরইত্যাদি প্রকাশিত হত।এদেরমধ্যেমুজিবনগর থেকেপ্রকাশিত জয়বাংলা, বাংলাদেশ, বঙ্গবাণী, স্বদেশ, রণাঙ্গন, স্বাধীন বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, সোনারবাংলা, বিপ্লবী বাংলাদেশ, জন্মভূমি, বাংলারবাণী, নতুনবাংলাইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়ামার্কিন যুক্তরাজ্য থেকেপ্রকাশিত বাংলাদেশ নিউজলেটার, বাংলাদেশ সংবাদপরিক্রমা, আমেরিকা থেকেপ্রকাশিত বাংলাদেশ নিউজলেটার, বাংলাদেশ নিউজবুলেটিন, শিক্ষাউল্লেখযোগ্য। কানাডাথেকেবাংলাদেশ স্ফুলিঙ্গ নামকসংবাদপত্র প্রকাশিত হত।

২৩. পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী ও তার সহযোগীরাঃ

বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তান সেনাবাহিনী একটিদখলদারবাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।দেশকেশত্রুমুক্ত করারলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারএকসশস্ত্র যুদ্ধেজড়িয়েপড়ে।সমগ্রজাতিকেএকত্রিত করেবিদেশীবন্ধুওসহযোগীরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ওপরোক্ষসহযোগিতায় ১৬ডিসেম্বর '৭১বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।

বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করারএইসশস্ত্র অধ্যায়ে উল্লেখযোগ্য কিছুরাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, সামরিকবেসামরিক কর্মকর্তা, ছাত্রওযুবসংগঠনের নেতৃবৃন্দ পাকিস্তান দখলদারবাহিনীর সহযোগীহয়েমুক্তিকামী মানুষের উপরজঘন্যএবংপৈশাচিক অত্যাচার ওহত্যাকান্ড চালায়।এইনির্মমওনিষ্ঠুর অত্যাচারে শহীদহয়৩০লক্ষনিরীহনিরাপরাধ শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষ। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়২লক্ষ৫০হাজারের অধিকবাংলারনারী।দেশছাড়তেবাধ্যহয়প্রায়এককোটিমানুষ।সকলেরএকটিমাত্রঅপরাধ ''তারাছিলবাঙালি''। পাকিস্তানের সামরিকশাসকেরদাম্ভিক উক্তি '' আমিমানুষচাইনা- পূর্ববাংলারমাটিচাই''। এই পোড়ামাটিরনীতিকেসমর্থনদিয়েবিভিন্ন ব্যক্তি বাসংগঠনএগিয়েআসে।

২৪. শান্তি কমিটিঃ

৪ঠাএপ্রিল '৭১জনাবনুরুলআমিনেরনেতৃত্বে অধ্যাপক গোলামআযমওখাজাখয়েরউদ্দীন টিক্কাখানেরসাথেসাক্ষাৎ করেসর্বপ্রকার রাজনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাসপ্রদানকরেনএবং ''নাগরিককমিটি'' গঠনেরপ্রস্তাব পেশকরেন।৬ইএপ্রিল '৭১অধ্যাপক গোলামআযমওহামিদুল হকচৌধুরীটিক্কাখানেরসাথেসাক্ষাৎ করে ''নাগরিকশান্তিকমিটি'' গঠনেরপ্রস্তাব দেন।৯ইএপ্রিল '৭১ঢাকায়১৪০সদস্যনিয়ে ''নাগরিকশান্তিকমিটি'' গঠিতহয়।১৭ইএপ্রিল '৭১এইকমিটিরনামপরিবর্তন করে ''শান্তিকমিটি'' রাখাহয়এবংজেলাওমহকুমাপর্যায়ে এইকমিটিগঠিতহয়।রাজাকার নির্বাচন, নিয়োগওনিয়ন্ত্রণ এইকমিটিরঅন্যতমদায়িত্ব ছিল।

২৫. রাজাকার বাহিনীঃ

মে '৭১মওলানাএকেএমইউসুফের নেতৃত্বে ৯৬জনজামায়াত কর্মীনিয়েখুলনারআনসারক্যাম্পে এইবাহিনীগঠিতহয়।তিনিএইবাহিনীর নামকরণকরেন ''রাজাকার বাহিনী''। এই বাহিনীর মোটসদস্যসংখ্যাছিল৫০,০০০ (পঞ্চাশ) হাজার।পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধানসহযোগীহিসাবেএইবাহিনীদায়িত্ব পালনকরে।বিশেষকরেগ্রামঅঞ্চলেএইবাহিনীর অত্যাচারের চিহ্নআজোবিদ্যমান।

২৬. আলবদর বাহিনীঃ

১৯৭১এরআগস্টমাসেময়মনসিংহে এইবাহিনীগঠিতহয়।সম্পূর্ণ ধর্মীয়আদর্শের উপরভিত্তিকরেএইবাহিনীর গঠনওকার্যক্রম পরিচালিত হয়।বাঙালিজাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বিশেষব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে এইবাহিনীকে ব্যবহার করাহয়।এইবাহিনীর কার্যকলাপের মধ্যেবুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড অন্যতম। মিরপুরবধ্যভূমি এইবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের সাক্ষ্য বহনকরে।

২৭. শরণার্থীঃ

পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বর্বরচিত আক্রমণওনির্যাতনের শিকারহয়েবিপুলসংখ্যকবাংলাদেশী ভারতেগমনকরেন।ভারতেরসীমান্তবর্তী এলাকায়১৪১টিশরণার্থী শিবিরস্থাপিত করাহয়।এইশিবিরগুলিকে মোট৯,৮৯৯,৩০৫ বাংলাদেশী আশ্রয়গ্রহণকরেন।পশ্চিমবঙ্গে৭,৪৯৩,৪৭৪, ত্রিপুরাতে ১,৪১৬,৪৯১, মেঘালয়ে ৬৬৭,৯৮৬, আসামে ৩১২,৭১৩ ও বিহারে৮৬৪১সংখ্যকবাংলাদেশী শরণার্থী আশ্রয়গ্রহণকরেন।

২৭. বিজয়ের পরিকল্পনা- সম্মিলিত চুড়ান্ত আক্রমণঃ

অক্টোবর '৭১মাসেরমধ্যেপাকিস্তান সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়েসমস্তসীমান্ত এলাকাছেড়েদিয়েসেনানিবাস অথবাবড়বড়শহরভিত্তিক অবস্থান নিতেবাধ্যহয়।এইসময়েরমধ্যেমুক্তিবাহিনী বাংলাদেশের প্রায়৮০ভাগএলাকামুক্তকরেছিল। নভেম্বর '৭১এরপ্রথমদিকেমুক্তিবাহিনী ওভারতীয়মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিতহয়সম্মিলিত বাহিনী। এইপর্যায়ে বাংলাদেশের সমগ্রযুদ্ধএলাকাকে ৪ভাগেবিভক্তকরেএইযৌথকমান্ডের নেতৃত্বে সমস্তসৈন্যবাহিনীকে সমন্বিত করেযুদ্ধপরিকল্পনা গড়েতোলাহয়।৩রাডিসেম্বর '৭১পাকিস্তান অতর্কিতভাবে ভারতআক্রমণকরলেযুদ্ধের মোড়পরিবর্তিত হয়।৬ইডিসেম্বর '৭১ভারতস্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলেমুক্তিবাহিনীর মনোবলবহুলাংশে বৃদ্ধিপায়।এইপর্যায়ে সমন্বিত একযুদ্ধপরিকল্পনায় সম্মিলিত বাহিনীপ্রচন্ড বেগেঅগ্রসরহয়েপাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পর্যুদস্ত করে।

এইচূড়ান্ত যুদ্ধেভারতীয়ইষ্টার্ণ কমান্ডঅংশগ্রহণকরে।তাদেরসদরদপ্তরছিলকলকাতাস্থ ফোর্টউইলিয়ামে এবংঅধিনায়ক ছিলেনলেঃজেনারেল জগজিতসিংঅরোরা।এইযুদ্ধেভারতীয়দের তিনটিকোর (৭টিডিভিশন), একটিকমুইনিকেশন জোন, একটিপ্যারাবিগ্রেড, ৩টিবিগ্রেড গ্রুপ, ১২টিমিডিয়াম রেজিমেন্ট আর্টিলারী, ৪৮টিফিল্ডরেজিমেন্ট আর্টিলারী, ১টিআরমার্ড রেজিমেন্ট, ২টিইন্ডিপেন্ডেন্ট আরমার্ড বিগ্রেড, ৩টিইঞ্জিনিয়ার বিগ্রেড, ২৯টিবিএসএফব্যাটালিয়ান অংশগ্রহণকরেন।এইযুদ্ধেভারতীয়দের শহীদদের সংখ্যা৬৯জনঅফিসার, ৬০জনজেসিও৩জনএনসিওও১২৯০জনসৈনিক।আহতহন২১১জনঅফিসার, ১৬০জনজেসিও, ১১জনএনসিওএবং৩৬৭৬সৈনিক।এছাড়াওযুদ্ধেমিসিংহন৩জনজেসিওও৫৩জনসৈনিক।

১৪ডিসেম্বর বাংলাদেশের বহুবুদ্ধিজীবিদের পাকিস্তান সেনাবাহিনী ওতাদেরদোসররাপরিকল্পিত ভাবেহত্যাকরে।১৬ইডিসেম্বর '৭১বিকাল৪টা৩০মিনিটেঢাকাররেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিকবাহিনীর ৯৩হাজারসৈন্যবিনাশর্তেসম্মিলিত বাহিনীর কাছেআত্মসমর্পণ করে।এইআত্মসমর্পণ দলিলেস্বাক্ষর করেনপূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনীপ্রধানলেঃজেনারেল জগজিতসিংঅরোরাওপাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃজেঃএকেনিয়াজী। এইআত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেনমুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ওবিমানবাহিনীপ্রধানগ্রুপক্যাপ্টেন একেখন্দকার। এইঅনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যেআরওউপস্থিত ছিলেনএসফোর্সঅধিনায়ক লেঃকর্নেলকেএমসফিউল্লাহ, ২নংসেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজরএটিএমহায়দারএবংটাঙ্গাইল মুক্তিবাহিনীর অধিনায়ক জনাবকাদেরসিদ্দিকী। ১৬ডিসেম্বর '৭১বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।প্রতিবছরএইদিনটি ''বিজয়দিবস'' হিসাবেপালিতহয়।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন এর খন্ড চিত্র

img